ইসলামের দৃষ্টিতে যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচন
আমাদের দায়িত্ব কাকে দেব? চার যোগ্যতার অধিকারী এবং ১০ গুণে গুণান্বিত এমন মৌলিক ১০ গুণে গুণান্বিত এমন ব্যক্তিকে আমরা আমাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করার চেষ্টা করব, সর্বাত্মক চেষ্টা করব।
তো প্রথম কথা মৌলিকভাবে চারটি কাজের যোগ্যতা রাখে—সূরা হজ্জের ৪১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তা’আলা বলেন: “আল্লাযীনা ইম্মাক্কান্নাহুম ফিল আরদি আক্বামুস সালাত”। আমি যাদেরকে পৃথিবীর ক্ষমতা দান করি, যাদেরকে পৃথিবীতে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করি তাদের মৌলিক কাজ হলো চারটা। ১. اَقَامُوا الصَّلٰوةَ —নামাজ কায়েম করবে। ২. وَاٰتَوُا الزَّكٰوةَ —যাকাতের বিধান রাষ্ট্রীয়ভাবে চালু করবে, যাকাত দিবে। এটার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো রাষ্ট্র হবে যাকাত ভিত্তিক। সুদ ভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা এটার শেষ পরিণতি হলো ভিক্ষা করা। যাকাত ভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার শুভ পরিণতি হলো গরীব মানুষ ধনী হয়ে যাওয়া। সুদ ভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার কুফল গরীব মানুষ আরো গরীব হবে, যাকাত ভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার সুফল হলো গরীব মানুষ আরো ধনী হবে।
তো চার কাজের যোগ্যতা রাখে যিনি এমন কাউকে আমরা প্রতিনিধি বানাবো। এক নাম্বার: যিনি নামাজ কায়েম করবে, রাষ্ট্রীয়ভাবে নামাজ প্রতিষ্ঠিত করবে। দুই নাম্বার: যারা যাকাত দিবে। (3) নাম্বার: وَاَمَرُوۡا بِالۡمَعۡرُوۡفِ—যারা সৎ কাজের আদেশ করবে। (4)নাম্বার: وَنَهَوۡا عَنِ الۡمُنۡكَرِ ؕ—অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে। এমন কাউকে যেন আমরা প্রতিনিধি না বানাই যিনি নিজেই অসৎ কাজ করে, তো তিনি অন্যকে অসৎ কাজের বাধা কিভাবে দিবেন? ।
যিনি অসৎ কাজে বাধা দিতে পারেন না এমন কাউকে যদি আপনি প্রতিনিধি বানান তো তিনি অসৎ কাজে বাধা দিবেন কিভাবে? এজন্য এই চার কাজের যোগ্যতা রাখে এমন ব্যক্তিকে আমরা ইনশাআল্লাহ আগামীতে আমাদের দেশের প্রতিনিধি বানাবোই ইনশাআল্লাহ। এটা আমাদের জন্য আমানত।
10মৌলিক গুণের অধিকারী হতে হবে যিনি আমাদের দায়িত্বশীল হবেন।
(01)🔹 ক্ষমতা পেলে আল্লাহমুখী হবে
পরকাল মুখী হবে। ক্ষমতা যত বেশি হবে তিনি তত বেশি আল্লাহমুখী হবে। যত বেশি ক্ষমতা তার কাছে আসবে তিনি তত বেশি সালাত আদায় করবে, তত বেশি এবাদত বাড়িয়ে দিবে, তত বেশি জনগণের কাছাকাছি যাবে এবং তত বেশি তিনি ইসলামের জন্য কাজ করবে আর আল্লাহমুখী হবে তত বেশি যাকে আল্লাহ যত বেশি ক্ষমতা দান করবে। কিন্তু আপনি দেখেন বিভিন্ন দেশের বাস্তবতা হলো এই—যারা বর্তমান পৃথিবীতে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন পন্থায় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হচ্ছে তাদের ক্ষমতা যত বাড়ে দুর্নীতি তত বাড়ে। কিন্তু একজন মুত্তাকী আল্লাহওয়ালা যিনি পরহেজগার আল্লাহমুখী হবেন, তিনি যদি ক্ষমতায় বসেন তাহলে তার আল্লাহমুখী হওয়া এবং আখেরাতমুখী হওয়া আগের চেয়ে আরও বেড়ে যাবে। এটা হলো আমাদের প্রতিনিধি যিনি হবে তার এক নম্বর গুণ হবে এটা।
সুলাইমান আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামকে আল্লাহ তা’আলা এত বড় রাজত্ব দান করছেন। সূরা আম্বিয়ার ৮১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন: “وَلِسُلَيْمَانَ الرِّيحَ عَاصِفَةً تَجْرِي بِأَمْرِهِ إِلَى الْأَرْضِ الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا ۚ وَكُنَّا بِكُلِّ شَيْءٍ عَالِمِينَ “। আমি সুলাইমানের জন্য ঝড়ো হাওয়াকে বশীভূত করে দিলাম। বাতাসকে তার অনুগামী করে দিলাম। সুলাইমান আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বাতাসের উপর এমনভাবে তার ক্ষমতা আল্লাহ প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, সকালবেলা সিংহাসনের মধ্যে অধিষ্ঠিত হয়ে বাতাসকে হুকুম করতেন অমুক এলাকায় আমার কাজ আছে আমাকে নিয়ে যাও। মুহূর্তের মধ্যে বাতাস সিংহাসন এক মাসের দূরত্বে পৌঁছায়ে দিত। এত ক্ষমতাধর একজন বাদশা হওয়া সত্ত্বেও সূরা সোয়াদের ৩০ নম্বর আয়াতে সুলাইমান নবীর ব্যাপারে আল্লাহ বলেন: “وَوَهَبْنَا لِدَاوُودَ سُلَيْمَانَ ۚ نِعْمَ الْعَبْدُ ۖ إِنَّهُ أَوَّابٌ “। আমি দাউদ নবীকে সুলাইমান নামে একটা পুত্র দান করলাম। আর এই সুলাইমান কেমন? ইন্নাহু আওয়াব—তিনি খুব বেশি আল্লাহর দিকে ঝুঁকে পড়ে, খুব বেশি আল্লাহমুখী হয়। আল্লাহ বলছেন আওয়াব—তিনি বারবার আল্লাহমুখী হয়। ক্ষমতা সুলাইমান নবী যত পেয়েছেন তিনি তত বেশি আল্লাহমুখী হয়েছেন।
সূরা নামলের ১৫ থেকে ১৯ নম্বর আয়াত—লম্বা হিস্ট্রি। সুলাইমান আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বহর নিয়ে রওনা করলেন, পিপড়ার এলাকায় গেলেন। যাওয়ার পর যখন তিনি পিপড়ার এলাকায় নামবেন, তার সাথে বিশাল বাহিনী তারাও সেখানে হাঁটবে। পিঁপড়ার রানী যে ছিল সে বলল: “قَالَتۡ نَمۡلَۃٌ یّٰۤاَیُّہَا النَّمۡلُ ادۡخُلُوۡا مَسٰکِنَکُمۡ ۚ لَا یَحۡطِمَنَّکُمۡ سُلَیۡمٰنُ وَجُنُوۡدُہٗ ۙ وَہُمۡ لَا یَشۡعُرُوۡنَ “। পিঁপড়ার রানী বলল, ও পিঁপিলিকার দল, তোমরা তোমাদের ঘরে প্রবেশ করো, তোমাদের গর্তে প্রবেশ করো। সুলাইমান নবী এবং তার বাহিনী না জেনে তোমাদেরকে যেন পিষে না ফেলে। পিঁপড়ার এই কথা সুলাইমান নবী বুঝে ফেললেন। “فَتَبَسَّمَ ضَاحِکًا مِّنۡ قَوۡلِہَا “—পিপড়ার কথা বুঝে সুলাইমান নবী একটা মুচকি হাসি দিলেন। আল্লাহ তা’আলা মানুষ, জিন, ইনসান ইত্যাদির পাশাপাশি পশুপাখির ভাষা বুঝার যোগ্যতাও সুলাইমান নবীকে আল্লাহ দান করছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো সুলাইমান নবী প্রকৃত অর্থেই বাস্তবে পাখির ভাষা বুঝতেন আল্লাহ এই যোগ্যতা দান করছেন। এই কথাটা মনে রাখা।
তো সুলাইমান আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম পাখির ভাষা বুঝলেন একটা মুচকি হাসি দিলেন। হাসি দেওয়ার পর সুলাইমান নবী বললেন: “قَالَ رَبِّ اَوۡزِعۡنِیۡۤ اَنۡ اَشۡکُرَ نِعۡمَتَکَ الَّتِیۡۤ اَنۡعَمۡتَ عَلَیَّ “। সুলাইমান নবী বললেন, আল্লাহ আপনি আমাকে তৌফিক দান করেন, আমাকে যে নিয়ামত দান করেছেন এই নিয়ামতের শুকরিয়া যেন আমি আদায় করতে পারি। অর্থাৎ আমি মানুষের উপর রাজত্ব করি, আমি জিনের উপর রাজত্ব করি, আমি পশুপাখির উপর রাজত্ব করি। আজকে পাখির ভাষাও আমি বুঝলাম। আল্লাহ আপনি যে আমাকে এত ক্ষমতা দান করেছেন এত নিয়ামত দান করেছেন, আমি যেন এই নিয়ামত পেয়ে অন্য কোনো আচরণ যেন আমার দ্বারা প্রকাশ না পায়। আল্লাহ আপনি যে আমাকে এত নিয়ামত দান করেছেন আমাকে তৌফিক দেন আমি যেন আরো বেশি আপনার শুকরিয়া আদায় করতে পারি। এখান থেকে কী বুঝলাম? আমাদের যারা দায়িত্বশীল হবে তাদের এক নম্বর গুণ হবে তিনি যত বেশি ক্ষমতা পাবে তত বেশি আল্লাহমুখী হবে।
(02): 🔹 ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে (আত্মীয়-স্বজন দেখবে না)
সূরা সোয়াদের ২৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন: “یٰدَاوٗدُ اِنَّا جَعَلۡنٰکَ خَلِیۡفَۃً فِی الۡاَرۡضِ فَاحۡکُمۡ بَیۡنَ النَّاسِ بِالۡحَقِّ “। হে দাউদ আমি আপনাকে দুনিয়াতে প্রতিনিধি বানাইলাম, মানুষের মাঝে ইনসাফের সাথে আপনি বিচার করেন। দাউদ নবী ফিলিস্তিনে সর্বপ্রথম বনী ইসরাঈলের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি দাউদ নবী যিনি ফিলিস্তিনে প্রায় ৭৩ পার্সেন্ট অঞ্চল আল্লাহ তা’আলা দাউদ নবীর শাসন ব্যবস্থায় পুরা ফিলিস্তিনের প্রায় ৭৩ শতাংশ অঞ্চল দাউদ নবীর অধীনে আল্লাহ দিয়ে দিয়েছিলেন। মনে রাখা ভালো ইহুদিরা ফিলিস্তিন শাসন করেছে প্রায় ৪৩৮ বছর। এই ৪৩৮ বছরের মধ্যে ঈমানী শাসন হলো ৮০ বছর। এই ৮০ বছরের মধ্যে ৪০ বছর হলেন দাউদ নবী শাসক আর ৪০ বছর সুলাইমান নবী। অর্থাৎ বাবা দাউদ নবী ৪০ বছর শাসক ছিলেন ফিলিস্তিনের আর সুলাইমান নবী ছিলেন ৪০—এই ৪০ দুগুণে ৮০। মনে রাখব আমরা বনী ইসরাঈল জাতি ফিলিস্তিন শাসন করছে প্রায় ৪৩৮ এর মধ্যে ঈমানী শাসন ছিল মাত্র ৮০ বছর। এই ৮০ বছর হলো দাউদ নবীর ৪০ বছর আর সুলাইমান নবীর ৪০ বছর। দোনো নবীর ব্যাপারে আল্লাহ সূরা নামলের ১৫ নম্বর আয়াতে বলেন: “ওয়া ক্বলাল হামদুলিল্লাহিল্লাযী ফদ্দলানা আলা কাসীরিন মিন ইবাদিহিল মু’মিনীন”। বাবা এবং সন্তান বলেছে—সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যে আল্লাহ আমাদেরকে পৃথিবীতে তার অনেক মুমিন বান্দাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। দাউদ নবী ক্ষমতা পেয়ে প্রশংসা করল কার? সুলাইমান নবী ক্ষমতা পেয়ে প্রশংসা করল কার? তো দাউদ নবীকে আল্লাহ বলছেন দাউদ আপনি মানুষের মাঝে ইনসাফের সাথে ফয়সালা করবেন বিচার করবেন। এটা হলো আমাদের যিনি প্রতিনিধি হবে তার দুই নম্বর গুণ হবে এটা।
সহিহ বুখারীর বর্ণনা ৬৭৮৮ নম্বর হাদিস। এই হাদিস লিখে রাখার মতো মনে রাখার মতো গর্ব করে সারা পৃথিবীতে বলার মতো। মক্কার আরবের একটা গোত্র আছে নাম হলো মাখজুমী গোত্র। এই গোত্রের এক নারী চুরি করছে নাম হলো ফাতিমা। আমাদের নবীর কন্যার নাম কি? ফাতিমা। আর মক্কার এক সম্ভ্রান্ত বংশের এক নারী চুরি করছে তার নামও কি? ফাতিমা। এই বিষয়টা কুরাইশদের বড় বড় নেতাদেরকে ভাবায় তুলল। চুরির বিচার হলো হাত কাটা। এখন তো এই সম্ভ্রান্ত বংশীয় নারী ফাতিমার হাত কাটা হবে। নবীর কাছে বলে দেখি একটু বিচারটা শিথিল করা যায় কিনা—নাউজুবিল্লাহ পড়েন। বড় বড় সাহাবীদেরকে এই বিষয়টা জানাইল। জানানোর পর সাহাবায়ে কেরাম চিন্তা করল নবীর কাছে এই ব্যাপারে কে কথা বলতে পারে? হাদিসের ভাষ্য হলো “ওয়া মাঁই ইয়াশতারিউ আলাইহি ইল্লা উসামাতুবনু যাইদিন হিব্বু রাসূলিল্লাহ (সা.)”। আল্লাহর রাসূল তার নাতি উসামা ইবনে যায়েদ মানে পালক পুত্র যায়েদ ইবনে হারিসার সন্তান উসামা—এই উসামাকে নবী খুব ভালোবাসতেন। হাদিসে আসছে হিব্বু রাসূলিল্লাহ—নবীর খুব আস্থভাজন ভালোবাসার মানুষ। তো সাহাবায়ে কেরাম বলল এই ব্যাপারে নবীর সাথে আমরা কেউ দুঃসাহস দেখাইতে পারবো না কথা বলার জন্য। উসামা পারে নবীর কাছে গিয়ে কথা বলতে কারণ নবী উসামাকে খুব ভালোবাসে। উসামা ইবনে যায়েদ রাদিয়াল্লাহু তাআলা নবীর কাছে গেলেন। যাওয়ার পর বললেন এমন এমন ঘটনা, ফাতিমা নামে এক সম্ভ্রান্ত বংশীয় নারী চুরি করছে এখন তার বিচারটাকে একটু শিথিল করা যায় না? নবীজি বুঝতে পারছে যে বড় বড় বয়স্করা আমার কাছে আসার সাহস না পেয়ে এই ছোট্ট উসামাকে আমার কাছে পাঠাইছে। নবীজি বাইরে আসলেন। আসার পর একটা ভাষণ দিয়ে বললেন, শুনো—ওই রবের কসম যার হাতে আমার জান। আল্লাহর কসম “লাও আন্না ফাতিমাতা বিনতে মুহাম্মাদিন সারাকাত লা কতাআ মুহাম্মাদুন ইয়াদাহা”। আল্লাহর কসম আমি নবী মুহাম্মদের কন্যা ফাতিমা যদি আজকে চুরি করতো ওই বংশীয় নারী ফাতিমা চুরি না করে আমি নবী মুহাম্মদ আমার মেয়ে ফাতিমা যদি চুরি করতো তাহলে আমি নবী মুহাম্মদ আমার কন্যা ফাতিমার হাত কেটে দিতে আমি মোটেই ইতস্তবোধ করতাম না, আল্লাহর বিধান আমার কন্যার উপরে আমি প্রয়োগ করতাম।
এটা হলো মুসলিম শাসকের দুই নম্বর বৈশিষ্ট্য—তিনি ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত করবেন। এখন ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত করার সময় আপনি যখন ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত করবেন, যেই মাত্র বিচারটা করবেন তখনই দেখলেন সে তো আমার আত্মীয় লাগে আর বিচার আপনি শিথিল করে ফেললেন এটা ইসলাম শিক্ষা দেয় না। এজন্য ইসলামী শাসন ব্যবস্থায় যিনি মুসলিম শাসক মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব করবেন তার দুই নম্বর গুণ হবে তিনি ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত করবেন সমাজে। এজন্য আমরা এমন কাউকেই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করব যার সিনায় কোরআন আছে, যার সিনায় হাদিস আছে। যিনি কোরআন-হাদিস অনুযায়ী আমাদের মাঝে ইনসাফ ভিত্তিক একটা রাষ্ট্র ব্যবস্থা আমাদেরকে উপহার দিতে পারবে। মনে থাকবে তো সবার ইনশাআল্লাহ?
(03): 🔹অন্যায়ের পথ পরিহার করে ন্যায়ের পথে চলা।
অন্যায়ের পথ পরিহার করে ন্যায়ের পথে চলা—আরেকটু সুন্দর বাংলা—ফাসাদের পথ পরিহার করে সংশোধনের পথে চলা। ফাসাদের আরবি হলো ইফসাদ মানে ফাসাদ সৃষ্টি করা আর সংশোধন করার আরবি হলো ইসলাহ। যিনি আমাদের প্রতিনিধি হবে তার তিন নাম্বার বৈশিষ্ট্য হবে তিনি ইফসাদের পথ পরিহার করে ইসলাহ এর পথে চলবেন। সূরা আরাফের ১৪২ নম্বর আয়াত। মুসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামকে আল্লাহ ডাকলেন তাওরাত কিতাব দেওয়ার জন্য। মুসা নবী যখন তাওরাত কিতাব আনতে গেলেন তার ভাই হারুন নবীকে তিনি তার প্রতিনিধি বানিয়ে গেলেন। “وَقَالَ مُوۡسٰی لِاَخِیۡہِ ہٰرُوۡنَ اخۡلُفۡنِیۡ فِیۡ قَوۡمِیۡ وَاَصۡلِحۡ وَلَا تَتَّبِعۡ سَبِیۡلَ الۡمُفۡسِدِیۡنَ । মুসা নবী তার ভাই হারুন নবীকে বললেন ভাইজান আপনি আমার প্রতিনিধি হবেন। এখন আপনি জাতির মাঝে আপনি দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের মাঝে আপনি সংশোধনের পথে চলবেন, ইসলাহ এর পথে চলবেন, ইফসাদের পথে চলবেন না। তাদের মাঝে আপনি ইসলাহ করে দিবেন, তাদের মাঝে কোনো ঝগড়া বিবাদ হলে এটা আপনি মিটিয়ে দিবেন অর্থাৎ আপনি সংশোধনের পথ বেছে নিবেন ইফসাদের পথ বেছে নিবেন না। কিন্তু আমাদের দেশের মধ্যে যদি এমন হয় যে ওলামায়ে কেরাম এবং ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী তৌহিদী জনতা তারা যদি আমাদের দেশে ইনসাফ কায়েম করতে চায়, আমাদের দেশে যদি তারা সত্য প্রতিষ্ঠিত করতে চায়—এই সত্যের বাধা দেওয়ার নাম হলো ইফসাদ আর ওই বাধাকে প্রতিহত করার নাম হলো ইসলাহ।
(04) 🔹 শিষ্টের লালন ও দুষ্টের দমন করবে
আয়াতগুলো বলছি না আমি শুধু নাম্বারটা বলে দেই—সূরা কাহাফ ৮৩ থেকে ৯১ নম্বর আয়াত পর্যন্ত জুলকারনাইন বাদশার একটা ঐতিহাসিক সফর সম্পর্কে আল্লাহ আলোচনা করেছেন। সেটা হলো পৃথিবীর একদম পশ্চিম প্রান্তে তিনি একটা সফর করছেন যেখানে সূর্য অস্ত যায়। সেখানে গিয়ে দেখলেন এক জাতি, এই জাতি আল্লাহ বিশ্বাস করে না তারা জুলুম করে। আল্লাহ তাদের ব্যাপারে জুলকারনাইন বাদশাকে বললেন তাদের উপরেও আপনার ক্ষমতা আমি প্রতিষ্ঠিত করলাম। এখন তাদের ব্যাপারে আপনাকে দুইটা অপশন দিলাম—”اِمَّاۤ اَنۡ تُعَذِّبَ وَاِمَّاۤ اَنۡ تَتَّخِذَ فِیۡہِمۡ حُسۡنًا “। হয়তো তাদেরকে শাস্তি দিবেন না হয় তাদের ব্যাপারে আপনি ভালো কোনো পন্থা অবলম্বন করবেন। জুলকারনাইন জবাব দিলেন, আল্লাহ আমি তাদের ব্যাপারে দুইটার যেকোনো একটা গ্রহণ করব—”قَالَ اَمَّا مَنۡ ظَلَمَ فَسَوۡفَ نُعَذِّبُہٗ ثُمَّ یُرَدُّ اِلٰی رَبِّہٖ فَیُعَذِّبُہٗ عَذَابًا نُّکۡرًا “। যারা জুলুম করবে আমি দাওয়াত দেওয়ার পরেও আমি তাদেরকে শাস্তি দিব। وَاَمَّا مَنۡ اٰمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَلَہٗ جَزَآءَۨ الۡحُسۡنٰی “। আর যারা ভালো করবে তাদের জন্য উত্তম প্রতিদান রয়েছে। দেখেন বিষয়টা—জুলকারনাইন বললেন আল্লাহ তাদের ব্যাপারে আমার দুইটা ফয়সালা—যারা জালেম হবে তাদেরকে আমি দমন করব আর যারা আমার কথা শুনে ভালো করবে তাদেরকে আমি লালন করব তাদের সাথে উত্তম ব্যবহার করব। তাহলে চার নাম্বার শিখলাম আমাদের প্রতিনিধি যিনি হবেন তিনি শিষ্টের লালন ভালোক লালন করবে দুষ্টকে দমন করবে।
(5)🔹 জনগণের জন্য অকাতরে বিলিয়ে দেবে
বলেন তো কি থাকবে? জনগণের জন্য অকাতরে বিলিয়ে দিতে হবে। এটা পাঁচ নম্বর বৈশিষ্ট্য। জুলকারনাইন বাদশা সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা বলেছেন সূরা কাহাফের ৯১ থেকে ৯৩ থেকে ৯৭ নম্বর আয়াত পর্যন্ত আল্লাহ বলেছেন জুলকারনাইন বাদশার আরেকটা সফর সম্পর্কে আল্লাহ আলোচনা করেছেন। সেই সফরটা হলো তিনি পৃথিবীর উত্তর দিকে সফর করেছেন। এটা কিন্তু আল্লাহ কোরআনে বলেননি উত্তর। আল্লাহ দিকের কথা বলছেন দুইটা—একটা সফর পূর্ব দিকে আর একটা পশ্চিম দিকে এই দুইটা বলছে। আরেকটা সফরের কথা বলছে আল্লাহ কিন্তু সফরটা কোন দিকে করছে এটা বলেনি। তবে মুফাসসিরিনে কেরাম গবেষণা করে বলেন জুলকারনাইনের আরেকটা সফর হয়েছে উত্তর দিকে রাশিয়ার দিকে—এটা মুফাসসিরিনে কেরামের অভিমত। সেখানে গেলেন যাওয়ার পর দেখে এক জাতি যারা জুলকারনাইন বাদশার কথা বুঝে না। “لَّا یَکَادُوۡنَ یَفۡقَہُوۡنَ قَوۡلًا “—ভাষা বুঝে না। তো জুলকারনাইন বাদশা তাদের সাথে কথা বলার জন্য দোভাষী নিযুক্ত করলেন অথবা তাদের সাথে ইশারায় কথা বললেন। তারা জুলকারনাইনকে বলল বাদশা আপনার কাছে আমাদের একটা দাবি আছে। কী দাবি? এই পাহাড়ের পিছনে দুইটা জাতি আছে একটা ইয়াজুজ আর একটা মাজুজ। এরা রাতের বেলা আমাদের বাড়িতে এসে লুটতরাজ করে ডাকাতি করে আমাদের ধন সম্পদ ছিনিয়ে নেয়। আপনি যদি এই দুই পাহাড়ের মাঝখানে ফাঁকা জায়গাটা বন্ধ করে দেন তাহলে তাদের এই দুর্নীতি থেকে তাদের এই লুটতরাজ থেকে আমরা বেঁচে যাব। এই কথা বলার পর জাতি বলল ও বাদশা প্রয়োজনে যদি কিছু টাকা পয়সা লাগে টাকা পয়সা আমরা দিব। কারা বলল? জাতি বলল বাদশাকে। বাদশা জুলকারনাইন বললেন আমার টাকা পয়সা লাগবে না। আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছে “قَالَ مَا مَکَّنِّیۡ فِیۡہِ رَبِّیۡ خَیۡرٌ “। আল্লাহ আমাকে যে ক্ষমতা দিয়েছে এটা অনেক উত্তম। “আইনুনী বি কুওয়াতিন”—তোমরা আমাকে একটু সহযোগিতা করবা। এই দেয়াল দেওয়ার জন্য প্রাচীর নির্মাণ করার জন্য তোমরা আমাকে একটু সহযোগিতা করবা। আর যা যা লাগবে এগুলা সব আমি নিজস্ব অর্থায়নে সবকিছু আমি এনে দিব তোমরা শুধু একটু বহন করে নিয়ে আসবা। বাদশা জুলকারনাইন দুই পাহাড়ের মাঝখানে একটা প্রাচীর দিয়ে দিলেন। তো জনগণের জন্য অকাতরে বিলিয়ে দেওয়া এটা মুসলিম শাসকের পাঁচ নম্বর বৈশিষ্ট্য হবে। বিষয়টি যেন এমন না হয় কথার কথা আপনি লাইনের গ্যাস বন্ধ করে দিলেন। একটা কথার কথা আমাদের দেশ গ্যাসের খনি না? এখন আপনি লাইনের গ্যাস বন্ধ করে দিয়ে বোতলের গ্যাস চালু করলেন। চালু করার পরে এটার দাম নির্ধারণ করলেন ৬০০ টাকা কিন্তু বাজারে আসল ১৪০০ ১৫০০ টাকা—এমনি বলতেছি কথার কথা। তো ভাই ১৫০০ কিভাবে হলো? কয় ৬০০ হলো মূল দাম এরপরে এক টাকা পায় অমুকে আর এক টাকা পায় তমুকে আর এক টাকা পায় সমুিকে—এইভাবে অমুকে আর তমুকে যারা পায় আর যারা নেয় এই জাতীয় কাউকে যদি আবার প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয় তাহলে রডের পরিবর্তে আবারো বাঁশ পাওয়া যাবে। এটা মাথায় রাখতে হবে। এটা বাস্তব। একটু একটু কথাগুলো বুঝতেছেন তো? তাহলে পাঁচ নম্বর জনগণের জন্য অকাতরে বিলিয়ে দিবে। এটা পাঁচ নম্বর বৈশিষ্ট্য আমরা যাকে প্রতিনিধি নির্বাচন করবো।
(6) 🔹 কিছু করতে পারলে বলবে—“এটা আমার রবের দয়া”।
এটা বলবেন যিনি করতে পারবেন। ব্যস তিনি কিন্তু অহংকার করবেন না। মানে কিছু করার পরে বলবে আমি এই করলাম সেই করলাম। মানে আপনি আপনার বাপের টাকা দিয়ে করছেন? তো আমাদের টাকা দিয়ে করছেন। এগুলা বলা যাবে না যে আমি এত কিছু করছি। এগুলা বলা যাবে না। বলতে হবে আল্লাহ আমারে তৌফিক দিয়েছে তাই আমি করেছি। এটা বলতে হবে। যদি কেউ কিছু করার পর বলে আমি এটা করেছি সেটা করেছি এই কথাগুলা অহংকার প্রদর্শন প্রকাশ পাবে। আর অহংকার যখন প্রকাশ পাবে তখন পতন এমনভাবে হবে যার পতন হবে তিনি নিজেও বুঝবেন না কিভাবে পতন হয়ে গেছে। খুব সাবধান। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন। তো ছয় নম্বর প্রতিনিধি কিছু করতে পেরে তিনি কার শুকরিয়া করবেন আল্লাহর। যে আল্লাহ দিছে। সূরা কাহাফের ৯৮ নম্বর আয়াতে আছে জুলকারনাইন ওই দেয়াল করে দেওয়ার পর বলছে “قَالَ ہٰذَا رَحۡمَۃٌ مِّنۡ رَّبِّیۡ “—এটা আমার রবের অনুগ্রহ দয়া। আমার রব দয়া করছে তাই তোমাদের জন্য কিছু করতে পারছি।
(7) 🔹 অর্থনীতি ও রক্ষণাবেক্ষণে পারদর্শী হবে।
আমাদের উপর একটা অভিযোগ উঠাইছিল যে ওলামায়ে কেরাম কি অর্থনীতি বুঝে? এরকম। মাওলানা হওয়ার দুই বছর আগে আমাদের কওমি মাদ্রাসার ছাত্ররা অর্থনীতির ব্যাপারে পোকা পোকা হয়ে যায়। অর্থনীতি শুধু বুঝে না মাওলানা হওয়ারও দুই বছর আগে আমাদের কওমি মাদ্রাসার ছাত্রদেরকে অর্থনীতি খাওয়ায় দেওয়া হয়। এক নম্বর। হা আমরা একটা অর্থনীতির বিরোধিতা করি এজন্য মনে করে আমরা বুঝি না সেটা কী? সুদ ভিত্তিক অর্থনীতির বিরোধিতা আমরা করি। এজন্য যারা সুদ ভিত্তিক অর্থ ব্যবস্থা চায় তারাই বলে যে ওলামায়ে কেরাম অর্থনীতি বুঝে না কারণ ওলামায়ে কেরাম যাকাত ভিত্তিক অর্থনীতি বুঝে আর সুদ ভিত্তিক অর্থনীতি এটা জাহান্নামী এটা বলার কারণে একদল মানুষ আমাদেরকে অভিযুক্ত করে যে আলেমরা অর্থনীতি বুঝে না। আসলে বিষয়টা এমন না আলেমরা অর্থনীতি শুধু বুঝে না ওলামায়ে কেরাম অর্থনীতি পড়ানোর যোগ্যতা রাখে। এই কথাটা সাত নাম্বার রক্ষণাবেক্ষণ এবং অর্থনীতিতে পারদর্শী। ইউসুফ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের ব্যাপারে আছে সূরা ইউসুফের ৫৫ নম্বর আয়াত। ইউসুফ নবী যখন দেখলেন যে এ দেশে যদি খাদ্য ভাণ্ডারের দায়িত্ব আমি না নেই তাহলে জালেমরা খাবার শেষ করে ফেলবে। ইউসুফ নবী নিজেই দায়িত্ব চেয়ে নিলেন। “قَالَ اجۡعَلۡنِیۡ عَلٰی خَزَآئِنِ الۡاَرۡضِ “। আমাকে খাদ্য ভাণ্ডারের দায়িত্ব দেন ইউসুফ নবী বললেন। এখান থেকে একটা বিষয় বুঝে আসে। বুখারীতে আছে “লা তাসালিল ইমারত”—দায়িত্ব চেয়ে নিও না। আর কোরআনে দেখলাম আমরা ইউসুফ নবী বলতেছে আমাকে দায়িত্ব দেন। বুখারীতে আছে দায়িত্ব চেয়ে নিও না আর সূরা ইউসুফের মধ্যে ইউসুফ নবী দায়িত্ব চেয়ে নিচ্ছে। এটার উত্তর হলো যখন যোগ্য ব্যক্তি দায়িত্বে থাকবে তখন আমার আপনার দায়িত্ব চেয়ে নেওয়ার দরকার নাই। আর অযোগ্য ব্যক্তিতে যখন দেশের দায়িত্বের জায়গাগুলো ভরপুর হয়ে যাবে যোগ্য ব্যক্তিরা তখন ওই দায়িত্ব চেয়ে নিবে যেভাবে হোক সঠিক পন্থায় ওই দায়িত্ব চেয়ে নিয়ে সেখানে যোগ্য ব্যক্তিদের বসতে হবে। বুঝে আসছে তো? বুখারীতে আসছে দায়িত্ব চেয়ে না চেও না মানে যোগ্যরা থাকলে তোমার চাওয়া দরকার নাই। আর সূরা ইউসুফে কি আসছে? অযোগ্যরা যখন দায়িত্বে থাকবে তখন যোগ্যরা দায়িত্ব চেয়ে নিতে হবে।
(8)🔹 ঘুষ গ্রহণ করবে না।
এটা দুইবার জোরে বলেন। জোরে বলেন সবাই—কি? দুইবার কি গ্রহণ করবে না? আবার বলেন কি গ্রহণ করবে না? এরকম লোক আমরা প্রতিনিধি বানাতে হবে। সূরা নামলের ৩৫ ৩৬ নম্বর আয়াত। রানী বিলকিস সুলাইমান নবীর কাছে হাদিয়া পাঠাইছে। হাদিয়া কেন পাঠাইছে তাফসীরের কিতাবে আসছে রানীর উদ্দেশ্য হলো সুলাইমান নবী যদি হাদিয়া পাওয়ার পর চিন্তা করে এত কিছু দিল যাক এই মহিলারে আর কিছু বলমু না। তো রানীর উদ্দেশ্য হলো সুলাইমান নবী তার রাজত্ব নিয়ে থাকবে আর আমি আমার রাজত্বে আমি রানীগিরি করবো। এই জন্য হাদিয়া পাঠাইছে। সূরা নামলের ৩৫ ৩৬ নম্বর আয়াতে আছে। তো রানীর ওই কথাগুলো সেখানে আছে দেখবেন খুব সুন্দরভাবে: “وَاِنِّیۡ مُرۡسِلَۃٌ اِلَیۡہِمۡ بِہَدِیَّۃٍ فَنٰظِرَۃٌۢ بِمَ یَرۡجِعُ الۡمُرۡسَلُوۡنَ “। আমি তার কাছে উপঢৌকন পাঠাবো।
(09) 🔹 আমানতদার হবে
কি হবে ভাই? আমানতদার হবে। সূরা নিসা ৫৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, اِنَّ اللّٰہَ یَاۡمُرُکُمۡ اَنۡ تُؤَدُّوا الۡاَمٰنٰتِ اِلٰۤی اَہۡلِہَا । আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করেন তোমরা আমানত যথাযথ জায়গায় পৌঁছিয়ে দাও। সহিহ বুখারীর বর্ণনা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হলো হুজুর কেয়ামত কবে? নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইযা হুসসিদাল আমরু ইলা গইরি আহলিহি ফান্তাজিরিস সাআহ। যখন দায়িত্ব অযোগ্য ব্যক্তিকে দেওয়া হবে তখন কেয়ামতের অপেক্ষা করো—এটা একটা বর্ণনা। আর এক বর্ণনায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইযা তূয়্যিয়াতিল আমানাতু ফান্তাজিরিস সাআহ। যখন আমানত উঠিয়ে দেওয়া হবে আমানত উঠিয়ে দেওয়া হবে তখন কেয়ামতের অপেক্ষা করো। সাহাবায়ে কেরাম প্রশ্ন করলেন কাইফা ইদাআতুহা ইয়া রাসূলাল্লাহ? হুজুর আমানত কিভাবে উঠিয়ে নেওয়া হবে? নবী বললেন, ইযা উসনিদাল আমরু আর এক বর্ণনায় ইযা হুসসিদাল আমরু ইলা গইরি আহলিহি। যখন অযোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হবে এই অযোগ্যকে দায়িত্ব দেওয়া মানে আমানত উঠিয়ে নেওয়া।
(10) 🔹 কোরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী বিচার করবে।
সূরা মায়েদা ৪৮, সূরা মায়েদা ৪৯, সূরা মায়েদা ৫০ এই আয়াতগুলোর মধ্যে আছে: “وَاَنِ احۡکُمۡ بَیۡنَہُمۡ بِمَاۤ اَنۡزَلَ اللّٰہُ । আমি আপনার কাছে কোরআন দিয়েছি। এই কোরআন এটা দিয়েছি এটার মাধ্যমে আপনি বিচার করবেন সঠিক ভাবে বিচার করবেন। শেষের দিকে আছে: “اَفَحُکۡمَ الۡجَاہِلِیَّۃِ”। তারা কি জাহেলি আইন চায়? “ওয়া মান আহসানু মিনাল্লাহি হুকমান”—আল্লাহর চাইতে শ্রেষ্ঠ উত্তম বিচারক আর কে হতে পারে? এজন্য আমরা যদি আমাদের বাংলাদেশে আল্লাহর আইন বাস্তবায়ন করতে চাই আল্লাহর কসম সত্যি বলছি আমাদের একজন যোগ্য চার কাজের যোগ্যতা রাখে ১০ গুণে মৌলিক গুণান্বিত এমন কোনো ব্যক্তিকে আমাদের দেশের দায়িত্ব দিতে হবে। তাহলে ইনশাআল্লাহ এ দেশে সংসদ চলবে কোরআন অনুযায়ী। এ দেশের বিভিন্ন পার্লামেন্ট চলবে কোরআন অনুযায়ী। আল্লাহর কসম আমরা স্বপ্ন দেখতেছি যে ৯০ পারসেন্ট মুসলমানের দেশ এটা তো একটা স্বাভাবিক বিষয় এদেশের সংসদ চলবে কোরআন অনুযায়ী। এদেশের বিচার ব্যবস্থা চলবে কোরআন অনুযায়ী—মানে এটা এমন কোনো কথা না যে হুজুর এটা কোনো কথা না এটা তো সাধারণ কথা ৯০ ভাগের মুসলমানের দেশ। বলেন কি অনুযায়ী দেশ চলবে? সংসদ কি অনুযায়ী চলবে? কোর্ট কি অনুযায়ী হবে? এটা তো একটা স্বাভাবিক বিষয় মনে থাকবে তো ইনশাআল্লাহ?













